LOADING

Type to search

ইসলামি উগ্রবাদ

ধর্ম ও দর্শন

ইসলামি উগ্রবাদ

Share

খুন, ধর্ষণ বা এরকম যেকোনো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আমরা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। সেই সাথে অপরাধের মনস্তত্বটিকেও বিচার করার চেষ্টা করি- এমনকি একজন সিরিয়াল কিলারের ক্ষেত্রেও আমরা সেটাই করি। কারণ আমরা অপরাধের উৎস বুঝতে চাই, বুঝতে চাই অপরাধীর পারপার্শ্বিকতা। বিষয়টি জঙ্গিবাদী খুনীদের মনস্তত্ব বোঝার ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তার মানে কিন্তু মোটেও এটা নয় যে আমরা খুনের বৈধতা দেই বা অপরাধের ঘটনাটিকে লঘু করে দেখি। কেউ কেউ পার্শিয়াল হয়ে সেটা করতে পারে, আমি করি না। কোনো ধরণের অপরাধই বৈধ নয়, এমনকি আদর্শের নামেও নয়।

ইরাকের ‘আবু গারিব’ কারাগারকে বলা হয় আইএস এর সূতিকাগার। সেখানে আটকে থেকে অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তার মধ্যে কিছূ সংখ্যক প্রকৃত অপরাধী ও ইসলামিক জঙ্গি থাকলেও অধিকাংশরাই সাধারণ মানুষ। কেউ হয়তো আগ্রাসনের বিরোধিতা করেছেন, কেউ একান্তই ছাপোষা। সেই বিভৎস কারাগারের কাঁটাতারের ভেতর আঁটকে থেকে জঙ্গিরা আরো হিংস্র হয়ে উঠেছে- তার সাথে নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে ছাপোষা মানুষগুলোর। আগ্রাসনকারীর অন্যায় নির্যাতনের প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে এরকম কতশত নিরীহ মানুষ হিংস্র জঙ্গিতে পরিণত হয়েছে তার খবর আমরা রাখিনি- ফল টের পেয়েছি। হ্যা, নিশ্চিতভাবে তাদের অনুপ্রেরণা হয়েছে ধর্মবিশ্বাস। কিন্তু ধর্মবিশ্বাস, কেবলমাত্র ধর্মবিশ্বাসের কারণে মানুষ হিংস্র আত্মঘাতী বোমাবাজ হয়ে এই ধারণা সঠিক নয়। ধর্মবিশ্বাস অনেকগুলো উপাদানের মধ্যে একটি।

ফ্রান্সের জনগণ ভয়ংকর কঠিন সময় পার করছে- তাদের কথা ভেবে বিষাদে ছেয়ে যাচ্ছে মন যেমনটি হয় লিবিয়া বা সিরিয়ার মানুষের কথা ভেবে। কোনো দোষ না করেই এসব দেশের মানুষেরা শাস্তি পাচ্ছে। কোনো কারণ ছাড়াই মানুষ একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরছে-লাভ হচ্ছে অন্য কারো। হয়ত ফ্রান্সের হামলায় যুক্ত ছিলো লিবিয়ার স্বজনহারা কেউ একজন, যুদ্ধ এবং রক্ত যাকে হিংস্র করে দিয়েছে। উইকিলিকস তার ফেসবুক পেজে বলেছে ‘প্রশিক্ষণ এবং অর্থ দিয়ে জঙ্গিবাদীদের সশস্ত্র করার অনিবার্য পরিণতি ভোগ করছে ফ্রান্স’। কিন্তু যাই হোক, কোথাও সাধারণ মানুষেরতো কোনো দোষ ছিলো না- তারাতো স্বার্থের লোভে আগ্রাসন চালাতে যায়নি।

যেভাবেই হোক না কেন ইসলামি উগ্রবাদ যা সশস্ত্র জঙ্গিবাদে পরিণত হয়েছে- তা গোটা বিশ্ববাসীর জন্যে এমনকি সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্যেও এক বিরাট থ্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার যার লোভ এবং স্বার্থের জায়গা থেকে উর্ধে উঠে বিষয়টিকে ডিল করতে হবে। আলাদা করে ভাবতে হবে মুসলমানদেরও, নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থে। কিন্তু যারা ভাবছেন গোটা মুসলমান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে বা অস্ত্রের জোরে এই সংকট উত্তরণ করা যাবে তারা প্রত্যেকেই আত্মঘাতী বোমার জ্যাকেট গায়ে জড়িয়ে আছেন। রক্তপাত এবং রক্তপাথ ছাড়া এ পথে আর কিছুই পাওয়া যাবে না। আত্মঘাতী বোমার বিরুদ্ধে অস্ত্রের জোর খাটবে না, সংবেদন এবং কৌশল লাগবে।

6 Comments

  1. “আত্মঘাতী বোমার বিরুদ্ধে অস্ত্রের জোর খাটবে না, সংবেদন এবং কৌশল লাগবে।” একমত। এদেরকে অন্যভাবে লাইনে আনতে হবে।

    Reply
  2. শিরোনামটা দেখেই আপনার মনোভাব পরিস্কার বুঝা যায়। হিন্দু,বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এসব ধর্মের লোকজন ধোয়া তুলশি? ভারতে সামান্য গরু জবাইকে কেন্দ্র করে মানুষ পিটিয়ে খুন, এসিড সন্ত্রাস, আর রোহিঙ্গা নির্যাতন এগুলোও কি মুসলমানদের কাজ?

    Reply
  3. লেখাটি নতুন করে ভাবালো। ভালো পর্যবেক্ষন।

    Reply
  4. লিয়াকত খান November 12, 2017

    তোদের মত কাফেরদের জন্য আমরা এই জগতে রেখে দিয়েচি চাপাতি আর কিরিচ। একবার দেশে আসো সোনা বাবু। তারপর মজা দেখাব।

    Reply
  5. হারামখোর তুই আসলে অমানুষের বাচ্চা

    Reply
  6. আলম হোসেন November 12, 2017

    তুই থাকস লন্ডনে কুত্তার বাচ্চা, একবার দেশে আয়। কিভাবে কোপামু তারপর দেখবি

    Reply

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *