LOADING

Type to search

গুমের এক দেশ বাংলাদেশ

ফিচার রাজনীতি

গুমের এক দেশ বাংলাদেশ

Share

উৎপল দাসের খোঁজ নেই, মোবাশ্বের হাসান সিজারের খোঁজ নেই। ঘটনাচক্রে উৎপল ও সিজারের নাম আমরা জানি। আমাদের নাম না জানা আরো অনেক মানুষ নিখোঁজ।

মানুষ কীভাবে নিখোঁজ হয় তার অনেক ধরণের কারণ বিগত বছরগুলিতে আমরা দেখেছি। আমরা দেখেছিলাম তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জোহা কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন। শীতলক্ষা থেকে লাশ উদ্ধার না হলে নারায়নগঞ্জের সাতজন মানুষও চলে যেতেন দীর্ঘ নিখোঁজের তালিকায়- নানান ঘনঘনটার ভিড়ে এতোদিনে তারা আমাদের বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতেন।

উৎপল বা সিজারের অন্তর্ধানের জন্য কারা দায়ী সে বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমানাদি আমাদের হাতে নেই। তবে বর্তমান সরকার ও তার নিয়ন্ত্রিত বাহিনীগুলো এই পরিস্থিতি তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে- সন্দেহ নেই। দীর্ঘকাল ধরে গোটা রাষ্ট্র ও সমাজে একটা ভীতি তৈরি হয়েছে- যে কেউ যেকোনো সময় হারিয়ে যেতে পারে। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত একাধিক বাহিনী গ্রেপ্তার এবং মুক্তিপণ বাণিজ্য চালাচ্ছে-এটাও এখন আর গোপন বিষয় নয়।

মোবাশ্বের হাসান সিজার কোথায় আছেন বা তাকে উদ্ধারের কী প্রচেষ্টা চলছে সে বিষয়ে রাষ্ট্র ও তার বাহিনী মুখে কুলুপ এঁটে আছে। এই লক্ষণ ভালো না। সিজারের পরিচিত জনদের মারফতে আমরা জানতে পারছি যে তার ফেসবুক আইডি সক্রিয় আছে, মেসেঞ্জারে মেসেজ দিলে ‘সিন’ হচ্ছে। তার ওয়ালে ট্যাগ অপশন বন্ধ করা ছিল, নিখোঁজ অবস্থাতেই সেটিকে ওপেন করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ সিজার যদি নিজে লুকিয়ে থাকেন বা কোনো অপরাধী চক্র তাকে আঁটকে রাখে- প্রযুক্তি ব্যবহার তার খোঁজ নিমেষেই বের করে ফেলা সম্ভব। যেহেতু সেটি করা হচ্ছে না- সুতরাং এই অনুমানে আর একটি অপশনই কেবল বাকী থাকে; সিজার আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেই আছেন।

গত কয়েকদিন ধরে ভাবছি-উৎপল বা সিজারকে ফিরিয়ে আনার জন্য কীভাবে চাপ সৃষ্টি করা যায়। ভেবে ভেবে কোনো দিশা পাচ্ছি না। বর্তমান সরকার ও তার রাষ্ট্রব্যবস্থা আমাদের সবচেযে বড় যে ক্ষতি করেছে তা হলো- জনস্বার্থের জায়গা থেকে কোনো কিছু করতে পারার বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা। বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে জবাবদিহিতামূলক সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কোমর ভেঙে দেয়া হয়েছে। যেকোনো ধরণের দাবি-দাওয়া, পাওনা প্রত্যাশা কেবল এক ব্যক্তির কাছেই করতে পারবেন। কোনোক্রমে সেই এক ব্যক্তির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারা ছাড়া আর কোনো নাগরিক দাবি দাওয়া মূল্যহীন, অর্থহীন। বিচারপতি সিনহা এটাকেই বলেছিলেন এক ব্যক্তির শাসন। তার কী পরিনতি হয়েছে তাতো আমরা দেখতে পেয়েছি।

সিজার যদি অপরাধী হয় এবং তাকে যদি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী আঁটক করে থাকে তাহলে সেই বিষয়ে বিস্তারিত আমাদের জানাতে হবে। কিন্তু এভাবে চলতে পারে না, এভাবে চলতে দেয়া যায় না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *